You are currently viewing বন্য প্রানীরা কীভাবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে

বন্য প্রানীরা কীভাবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে

বন্য প্রানীরা মানুষের মতই নিজেদের মধ্যে কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। কেন করে ? এর সহজ উত্তর হল মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ করা যেমন জরুরি হয়ে পড়ে তেমনি ভাবে বন্য প্রনীদেরও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করার দরকার হয়। এভাবে তারা বিপদ-আপদে নিজেদের সহযোগিতা করতে পারে। এছাড়াও বন্য প্রানীদের ধরন এবং জাত ভেদে বিভিন্ন প্রানী বিভিন্নভাবে নিজেদের সাথে যোগাযোগ করে যা অন্য প্রজাতির প্রানীদের থেকে সম্পূর্ন আলাদা এবং ইউনিক প্রকৃতির। বিড়াল, কুকুর, গরু সহ আরও অন্যান্য প্রানীরা বিভিন্ন রকম শব্দ করে নিজেদের মধ্যে ডাকে। মজার ব্যাপআর হল এরা বিভিন্ন উপায়ে একে অপরের সাথে ডাকলেও কখনই মানুষের মত অথবা মানুষের চেয়ে সহজভাবে যোগাযোগ করতে পারে না। এজন্য প্রানীদের যোগাযোগের প্রকৃতি অনেক জটিল প্রকৃতির।

গন্ডারঃ

এরা স্থলপথের শক্তিশালী প্রানীদের মধ্যে একটি। অনেকর গন্ডার এবং জলহস্তীর মধ্যে কে বেশ শক্তিশালী তা জানার আগ্রহ থাকে। কিন্তু প্রত্যেক প্রানীই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী অনন্য। এজন্য যে যত বেশী দক্ষ সে প্রানী তত বেশী শক্তিশালী। গন্ডার নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য এরা এদের চলার পথে মলত্যাগ করে যেতে থাকে। এতে করে এরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ  রক্ষা করে। বিষয়টি অনেক অবাক করার মত হলেও এদের গোবর দেখে মলত্যাগকৃত গণ্ডারের সকল বৈশিষ্ট্য সহজেই বের করা যায়।

গণ্ডার
ছবিঃ বন্য প্রানী গন্ডার

তিমিঃ 

ক্যারাবিয় সমুদ্র অঞ্চলে দুই ধরনের তিমির প্রজাতি পাওয়া যায়। কিন্তু এরা সম্পূর্ন একে অপরের থেকে অনেকটা ভিন্ন প্রকৃতির বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। তবে একই প্রজাতির প্রানীরা নিজেদের মধ্যে “ক্লিক” শব্দের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। অনেকটা কম্পিউটারের মাউস ক্লিক  করলে যেমন শব্দ হয় ঠিক তেমন। এদের এই যোগাযোগ করার প্রক্রিয়াকে “কোডাস” বলে। এভাবে তারা সমুদ্রের তলদেশে তারা বিভিন্ন দিক চলাফেরা করতে পারে। এদের স্পার্ম হোয়ায়েল বলা হয়।

Blue whale নীল তিমি
ছবিঃ তিমি মাছ

প্রজাপতিঃ 

নীলাভ ধূসর রঙের প্রজাপতি একে অপরের সাথে যোগাযোগের জন্য গান গায়।গান গাওয়া অন্যান্য প্রানীদের মধ্যে যোগাযোগ করার অন্যতম মাধ্যম। পিঁপড়ারা নিজেদের মধ্যে গান গাওয়ার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। রেড অ্যান্ট প্রজাতির পিঁপড়াদের মধ্যে এই বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।  পিঁপড়াদের সম্পর্কে আরও জানতে ক্লিক করুন

butterfly
ছবিঃ প্রজাপতি

বন্য প্রানীঃ

সচরাচর হাতি একে অপরের সাথে যোগাযোগ করার জন্য খুব সাধারনভাবে শব্দ করে থাকে। এই শব্দ এতটাই ক্ষীন প্রকৃতির যে মানুষের শ্রাব্যতার সীমার নিচে। এজন্য আমরা শুনতে পাই না। শ্রাব্যতার সীমা হল মানুষের কানে শোনার ক্ষমতা। নির্দিষ্ট রেঞ্জের শব্দই শুধুমাত্র মানুষ শুনতে পারে। কিন্তু এই অল্প পরিমান শব্দ আফ্রিকায় ১৭৫ মাইল দুর থেকে অন্য হাতি সহজেই শুনতে পায়। এই ধরনের শব্দকে “ইনফ্রাসাউন্ড” বলা হয়।

বন্য প্রানী হাতি Elephant
ছবিঃ বন্য প্রানী হাতি

র‍্যাভেনঃ 

মানুষ কোন কিছু নির্দিষ্ট করে দেখানোর জন্য হাত ব্যবহার করে থাকে। অর্থাৎ মানুষ তার অঙ্গ-ভঙ্গি বুঝানোর জন্য হাৎ বেশি ব্যাবহার করে। কিন্তু র‍্যাভেন প্রজাতির পাখি তাদের অঙ্গ-ভঙ্গি বুঝানোর জন্য চঞ্চু  বা ঠোঁট এবং পাখা ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে পাথর, মস, গাছের কাণ্ড ইত্যাদি অন্য সঙ্গীদের বুঝানোর জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করে।

Raven birds, Avengers
ছবিঃ র‍্যাভেন বার্ড

 

বাদুড়ঃ 

এরা একে অপরের সাথে যোগাযোগের জন্য বেশি ফ্রিকুয়েন্সি বিশিষ্ট আওয়াজ করে থাকে। কিন্তু এই ফ্রিকুয়েন্সির শব্দ তাদের জন্য সহনীয় হলেও মানুষের জন্য এক পর্যায়ে অসহনীয় হয়ে যায়। রিসার্চে জানা গেছে এভাবে তারা তাদের শব্দ ট্রান্সলেট করে থাকে। তবে এদের এই শব্দ তাদের আলোচনার চেয়ে তর্ক ই বেশি মনে হয়।

বাদুড় Batman
ছবিঃ বাদুড়

পরিশেষে বন্য প্রানীরা নিজেদের মধ্যে কিভাবে যোগাযোগ করে তা জানা গেল। কিন্তু প্রানীদের সংখ্যা অগনিত। এরা প্রত্যেকে নিজেদের মধ্যে ইউনিক উপায়ে যোগাযোগ করে থাকে। বিধায় এদের সম্পর্কে একটি মাত্র আর্টিকেলে জানা সম্ভব  নয়। তাই এই সম্পর্কে আরও জানতে আমাদের সাথেই থাকুন এবং আপনারা নতুন বা বিশেষ কোন তথ্য জানা থাকলে কমেণ্ট বক্সে শেয়ার করুন। লেখাটি পড়ে কেমন লাগল তা জানাতে ভুলবেন না কিন্তু!!!

Facebook Comments

YappoBD

YappoBD-হলো poshupakhi.com এর একমাত্র স্বত্তাধীকারি। এই ওয়েবসাইটের সকল প্রকার কন্টেন্ট ইয়াপ্পোবিডি কর্তৃপক্ষ দ্বারা লিখিত, পরিমার্জিত এবং এটি ইয়াপ্পোবিডি এর অঙ্গসংস্থান।