You are currently viewing বিশ্বের টপ ১০টি ভয়ংকর বিষাক্ত সাপের পরিচয়!
ছবিঃ বিষাক্ত সাপ

বিশ্বের টপ ১০টি ভয়ংকর বিষাক্ত সাপের পরিচয়!

বিষ বা বিষগ্রন্থি ও বিষদাঁতযুক্ত কয়েক প্রজাতির সাপ এই পৃথিবীতে রয়েছে। এই সাপদের শিকারের বা আক্রান্তের দেহে বিষদাঁতের মাধ্যমে বিষগ্রন্থি থেকে বিষ ঢেলে দেওয়ার বা বিষ ঢুকিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কার্যকর করে থাকে। তাই এই বিশ্বের টপ ভয়ংকর বিষাক্ত সাপের পরিচয় নিচে বর্ননা করা হলোঃ

১।  ওয়েস্টার্ন গ্রিন মাম্বাঃ এই সাপের বৈজ্ঞানিক নাম ডেনড্রোস্প্পিস ভাইরাস বলে আখ্যাইত করা হয়েছে। এরা পরিবার ভুক্ত এক প্রজাতির বিষধর সাপ। এই সাপ আফ্রিকায় পশ্চিমালীয় সবুজ মাম্বা নামে পরিচিত। পশ্চিমাঞ্চলীয় সবুজ মাম্বা অত্যন্ত সতর্ক, ভীরু এবং অতিমাত্রায় ক্ষিপ্ত ও দ্রুতগামী সাপ। এরা অত্যান্ত ভয়ংকর সাপ এরা মানুষ এর সম্মুখে আসেনা আর আসলে মানুষ এর রেহায় নাই, যা কে পাবে তার মৃত্যু নিশ্চিত। এদের বিষ অত্যান্ত মারাত্নক। কেউ কেউ এই প্রজাতিটিকে বিশেষত আক্রমণাত্মক সাপ হিসাবে বিবেচনা করেন না, তবে অন্যরা পরামর্শ দিয়েছেন যে তারা অত্যন্ত নার্ভাস এবং কোণে ঘেরাও করার সময় আক্রমণাত্মক আক্রমণ করার ঝুঁকিতে রয়েছে। 

Western green mamba
ছবিঃ ওয়েস্টার্ন গ্রিন মাম্বা

 

২। ইন্ডিয়ান কিং কোবরাঃ পৃথিবীতে বিষধর সাপের মধ্যে অন্যতম সাপ হলো কিং কোবরা। এই সাপ বিষাক্ত সাপের মধ্যে ৪র্থ তম। এর সাধারনত ৩.৫ মিটার থেকে ৫.৫ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। এই সাপ বিষধর হলেও মানুষকে কামড়ায় কম, এরা সহজে মানুষের সংস্পর্শে আসে না এরা গভীর জঙ্গলে বাস করে। তবে এরা যখন ক্ষুদার্থ হয় তখন খবার না পাইলে নিজের জাতের সাপকে হজম করে। এদের প্রধান খাবার হল বিষহীন সাপ। ভারতীয় কোব্রা (নাজা নাজা), দর্শনীয় কোবরা, এশিয়ান কোবরা বা বিনোসেলেট কোবরা নামেও পরিচিত, এটি নাজা প্রাপ্ত একটি প্রজাতি, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং ভুটান এবং এর একটি সদস্য “বিগ ফোর” প্রজাতিগুলি ভারতে মানুষের উপর সর্বাধিক সর্পদংশিত করে। এটি রাজা কোবরা থেকে পৃথক, যা একঘেয়েমি জেনারেল ওফিওফাগাসের অন্তর্গত। ভারতীয় কোবরাটি ভারতীয় পৌরাণিক কাহিনী ও সংস্কৃতিতে শ্রদ্ধাশীল এবং প্রায়শই সাপকে মজাদারদের সাথে দেখা যায়। 

Indian King Cobra
ছবিঃ ইন্ডিয়ান কিং কোবরা

কিং কোবরার ত্বক মাথার দিকে কালো এবং সাদা ব্যান্ডযুক্ত জলপাই সবুজ। মাথাটি ১৫ টি ড্র্যাব রঙিন এবং কালো প্রান্তের ঝাল দ্বারা আবৃত। বিড়াল গোলাকার, আর জিহ্বা কালো। এটির উপরের চোয়ালে দুটি ফ্যাং এবং ৩-৫ ম্যাক্সিলার দাঁত রয়েছে এবং নীচের চোয়ালে দুটি সারি দাঁত রয়েছে।

৩। ভাইপারসঃ ভাইপারস সাপ বিষধর সাপের মধ্যে অন্যতম প্রজাতির সাপ। এই সাপ ইংরেজিতে ভাইপারিডি নামে পরিচিত। এই সাপ বিষধর চার পরিবারের একটি। এই সাপ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়।এই প্রাজাতির সাপ অত্যান্ত রাগান্বিত হয় খুব দ্রুত রেগে যায়। এরা সাধারনত রাতের বেলা শিকার করে। এই সাপের কামড় অত্যান্ত বিষাক্ত, এদের কামড়ের ফলে মানুষের শরীলের রক্ত জমাট বাধে এবং প্রচন্ড ব্যাথা হয় এমন কি মৃত্যু হয়ে যায়। সমস্ত ভাইপারিডে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ লম্বা সোলেনোগ্লাইফাস (ফাঁকা) ফ্যাং রয়েছে যা চোখের ঠিক পেছনের দিকে, উপরের চোয়ালের পিছনের দিকে অবস্থিত গ্রন্থিগুলি থেকে বিষ প্রয়োগ করতে ব্যবহৃত হয়।

Vipers
ছবিঃ ভাইপারস

 

৪। টাইগার স্নেকঃ টাইগার সাপ বিষাক্ত প্রজাতির সাপের  মধ্যে ৯ম। এরাও মারাত্নক বিষ ধারি সাপ, এদের দেখলেই বুজা যায় এরা আক্রামনাত্নক সাপ। এদের দেহের রঙ বাদামী কালো বাঘের মতো ডোরাকাটা সাপ।এই সাপ গুলো অস্ট্রেলিইয়া তে বসবাসকারী সাপের মধ্যে একটি সাপ। এরা লম্বায় ৭ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এরা খুব তাড়াতাড়ি বিষ তুলতে পারে। এই সাপ হিংস্র নয়, হঠাৎ করেই ছোবল দিয়ে বসে না। এরা প্রথমে মুখ হাঁ করে সাবধান করে। এদের বিষ রক্ত ও মস্তিষ্ককে অকার্যকর করে এবং শরীর প্যারালাইজড হয়ে যায়, এমন কি মৃত্যু হয়ে যায়।

Tiger snake
ছবিঃ টাইগার স্নেক

 

৫। কোরাল স্নেকসঃ কোরাল সাপ ইংরেজি নাম হলো লঙ গ্ল্যানডেড। উত্তর আমেরিকার বাসিন্দা সাপ এই সাপ অত্যান্ত ভয়ানক। এদের বিষে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে থাকে। এই সাপের বিষ খুব দ্রুত ছড়ায়। এরা নিজের জাত অথবা বিষাক্ত সাপ কে শিকার করে খায়। এরা সাড়ে ছয় ফুট লম্বা হয়ে থাকে এদের বিষ এরা অতি তাড়াতাড়ি মানুষের শরীলে ছারতে পারে এদের ছোবল খুব মারাত্নক হয়ে থাকে।

Coral snake
ছবিঃ কোরাল স্নেকস

৬। ইনল্যান্ড তাইপান স্নেকঃ তাইপান হলো বিশ্বের সর্বাধিক বিষধর সাপ। এরা অন্য কোন সাপের থাকে প্রায় ১৫০গুন বেশি শক্তিশালী। এদের বৈজ্ঞানিক নাম অক্সিউড়ানো মিক্রোলেপিডোটাস। এই সাপের ছোবলে কোন মানুষ এক ঘন্টা বা তার বেশি সময় বেচে ছিলো এমন কোন ঘটনা এখনও ঘটেনি। এই সাপের ভেনম এতোটাই তীব্র যে প্রায় ১২০মিলিগ্রাম নির্গত হয়। সাপের বিষে একটা মানুষ মারা যাওয়ার জন্য সামান্য কিছু মিলিগ্রাম বিষের প্রয়োজন হয়।

 Taiwan
ছবিঃ ইনল্যান্ড টাইপান

 

৭। ডেথ এডারঃ এই সাপ বিষাক্ত সাপের মধ্যে ৯ম তম বিষধর সাপ। এই সাপের বৈজ্ঞানিক নাম আকণ্ঠফিস আন্টার্কটিকাস। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নিজের জাতের সাপ বা অন্য সাপ কে শিকার করা। এই সাপ সাধারনত অস্ট্রেলিয়া বা তার পার্শবর্তী দেশে চোখে পড়ে। এই সাপ গুলো অত্যান্ত ভয়ংকর হয়ে থাকে। এদের এক কামড়ে ৪০-১০০ মিলিগ্রাম বিষ নির্গত হয়। এদের বিষ প্রয়োগের ৬ ঘন্টা পর থাকে কার্যকর হয়। এদের বিষে.২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

Death Eder
ছবিঃ ডেট এডার

 

৮।বেলচারস সী স্নেকঃ সরিসৃপ ও প্রানীকুলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিষাক্ত সাপ হলো বেলচারস সী স্নেক। এর বৈজ্ঞানিক নাম হাইড্রোফিস বেলচেরি। এই সাপ ২য় প্রধান সাপ তাইপিন এর বিষ থাকেও ১০০ গুন বেশি বিষাক্ত হয়ে থাকে। এই সাপ সাধারনত অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূল এবং দক্ষিণ এশিয়ার উপকূলের সাগরের জলে এদের দেখা পাওয়া যায়। এই সাপের এক কামড়ে যতটুকু বিষ বের হয় তা দিয়ে প্রায় এক হাজার পূর্ন বয়স্ক মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা সম্ভব। এরা সান্ত হয় এবং লাজুক প্রকৃতিক হয়ে থাকে। এরা সমুদ্রে থাকে বলে মানুষের সংস্পর্শে খুব কম আসে। যারা সমুদ্রে মাছ ধরে তারা সাধারনত সাপের দংশনের শিকার হয়।

 Belchers Sea Snake
ছবিঃ বেলচারস সী স্নেক

 

৯। র‍্যাটল স্নেকঃ বিষধর প্রজাতির মধ্যে র‍্যাটল স্নেক এক ধরনের বিষধর সাপ। এই সাপের বৈজ্ঞানিক নাম হলো ক্রোটালাস। এরা বিষধর সাপের উপ পরিবার। এরা সাধারনত মরু অঞ্চলে বসবাস করে। এদের কে যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া যায়। এই সাপের লেজ এর দিকে ঝুনঝুন শব্দ করার জন্য একটা বিশেষ অঙ্গ রয়েছে। এদের প্রধান খাদ্য হলো ইঁদুর, পাখি ও অন্যান্য ছোট ছোট প্রানী। এরা সাধারনত লাফিয়ে শিকার করে। এদের বিষ ক্রিয়া খব মারাত্নক হয়ে থাকে। এ সাপ খুব রাগি প্রকৃতির হয়। র‍্যাটল সাপ চোখের পলকে আক্রমণ করতে পারে। এদের বাচ্চা বড় সাপের তুলনায় বেশি বিপদজনক কারন বাচ্চাদের বিষ খুব বেশি হয়ে থাকে। সঠিক সময় চিকিৎসা না হইলে এই বিষে মানুষ মৃত্যুবরন করে। এরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বছর প্রায় ৭০০০-৮০০০ মানুষ কে দংশন করে থাকে।

Rattle Snake
ছবিঃ র‍্যাটল স্নেক

 

১০। বোথরোপস আইসুলারিসঃ এই সাপ টি ফর-ডি-ল্যান্স নামেও পরিচিত। এরা সাধারনত ব্রাজিলে বসবাস করে। এদের কে দক্ষিন আমেরিকা ও দক্ষিন মেক্সিকোতে দেখা মেলে। এরা হলুদ চোয়াল বিশিষ্ট্য টম্মিগফ হয়ে থাকে। এরা বিষধারী সাপের মধ্যে ৭ম বিষাক্ত সাপ। এই সাপ খুব রাগান্বিত হয় এবং খুব দ্রুত উত্তেজিত হয়। এদের কে সামান্য উত্তেজিত করলেও মারাত্নক ভাবে ছোবল মারতে পারে। এদের দংশনে মৃত্যুর হারটাই বেশি থকে। এরা লম্বা প্রজাতির সাপ এরা প্রায় ১.৪ থেকে ২.৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

For-D-Lance
ছবিঃ ফর-ডি-ল্যান্স

 

উপরে বিষাক্ত সাপের পরিচয় ও তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। সাপ গুলো থেকে সকলেই সাবধান হয়ে থাকতে হবে তবে সাপ কাটলে চিকিৎসা করা দরকার। পরিশেষে এটাই বলবো সাপ বা যে কোন প্রানীকে আঘাত না করে তাদের কে সহানুভতি ও ভালবাসার চোখে দেখবো।

Facebook Comments

YappoBD

YappoBD-হলো poshupakhi.com এর একমাত্র স্বত্তাধীকারি। এই ওয়েবসাইটের সকল প্রকার কন্টেন্ট ইয়াপ্পোবিডি কর্তৃপক্ষ দ্বারা লিখিত, পরিমার্জিত এবং এটি ইয়াপ্পোবিডি এর অঙ্গসংস্থান।