পৃথিবীর বিশ্রী ১০ টি প্রানীর তালিকা
ছবিঃ বিশ্রী প্রাণী

পৃথিবীর বিশ্রী ১০ টি প্রানীর তালিকা

পৃথিবীর সব প্রাণী পান্ডা এবং ময়ূর এর মত সুন্দর না হলেও প্রত্যেক প্রানীর জীবজগতে নিজস্ব ভূমিকা আছে। এতে জীববৈচিত্র রক্ষা পায় এবং জীবজগতের যে চেইন আছে তা বজায় থাকে। একটি প্রবাদ আছে যে , সৌন্দর্য কেবল ত্বকের গভীরতার উপর নির্ভর করে। কিন্তু নিচের প্রানীদের সম্পর্কে জানলে ধারনা পরিবর্তন হতে পারেঃ 

১। শকুনঃ

ক্যালিফোর্নিয়ার কনডোর নামক শকুন নর্থ আমেরিকার অঞ্চলের সবচেয়ে বড় উড়ন্ত পাখি। এ পাখিটি আমেরিকার ক্যানিয়ন অঞ্চলের মরূভুমির উপর দিয়ে সমুদ্র উপকূল দিয়ে উড়ে বেড়ায়। এর মাথা টাক হওয়ায় দেখতে অসুন্দর লাগে। এর মাথা রক্তিম বর্ণের হয়ে থাকে। ক্যারিয়ন জাতীয় খাবার খাওয়ায় এদের মাথা এ রকম হয়ে থাকে। এটি তাদের জীবন যাত্রার অংশ হয়ে আছে।

শকুন
ছবিঃ শকুন

২। ব্লবফিসঃ

মাছকে সাধারনত পানি ছাড়া বিচার করা যায় না। কিন্তু  ব্লবফিসকে পানির বাহিরে সম্পুর্ন কাঁচের বলের মত লাগে। এরা অনেক ক্ষুদ্র আকৃতির প্রাণী। গভীর সমুদ্রে যেখানে চাপ বেশি সেখানে তারা চলাচল করে। এটি কারও সামনে আসলে কাঁচের তৈরী জিনসের মত গ্লেজ করে।এটি তাদের ছদ্মবেশে থাকতে সাহায্য করে।

blobfish
ছবিঃ ব্লবফিস

 

৩। নেকেড মোল ইঁদুরঃ

এদের স্যান্ড পাপ্পিও বলা হয়ে থাকে। এদের চোখ আংশিক অন্ধ  হওয়ায় এরা ঠিকমত দেখতে পারে না। মাটির নিচের পোকা-মাকড় সহ অন্য সব প্রাণীদের মত চলাচল করতে এদের বেশি দৃষ্টিশক্তির দরকার পড়ে না। এদের গায়ে কোন লোম না থাকায় মাটির নিচে এদের থাকেতে অনেক সুবিধা  হয়। এদের সাথে গিনিপিগের কিছুটা মিল পাওয়া যায়। অন্য সব ইঁদুর এর মধ্যে এরা সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচে। এরা সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

Naked mole rats
ছবিঃ নেকেড মোল ইঁদুর

৪। প্রোবোসিস বানরঃ

মানুষের এত বড় নাক থাকলে হয়ত সে দৌড় দিবে কিন্তু প্রোবোসিস বানর “নাক যত বড়, তত ভাল” নীতিতে বিশ্বাসী। বিজ্ঞানীরা গবেষনা করে দেখেছে যে, পুরুষ বানরদের নাক বড় হওয়ায় এদের কন্ঠ স্ত্রী বানরদের আকৃষ্ট করে। এ আওয়াজ অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষ বানরাও শুনতে পারে। এরা খুব দক্ষ সাঁতারু। ধারনা করা হয়ে থাকে যে, এরা কুমির  এর চেয়েও দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে।

Probosis monkey
ছবিঃ প্রোবোসিস বানর

৫। স্টার নোজড মোলঃ

এদের নাক প্রানীজগতের মধ্যে উদ্ভট নাক  গুলোর মধ্যে একটি।এদের নাকের চারপাশে ২২টি মাংসাশী কিন্তু সংবেদী অঙ্গ আছে। এ বৈশিষ্ট্য তাদের প্রানিজগতের বাকি সব প্রাণী হতে আলাদা করেছে। শিকার ধরার সময় এসব অঙ্গ সক্রিয় হয়।

Star Nose Mall
ছবিঃ স্টার নোজড মোল

৬। মোঙ্ক ফিসঃ

মাছটি এমন অদ্ভূত দেখতে হলেও এগুলো খাবারের তালিকায় পড়ে।কিন্তু এর বিশ্রী রূপের কারনে মানুষ এগুলো খেতে চায় না। কিন্তু রেস্টুরেণ্টে এটি এখনও রান্নার পর সুন্দর করে পরিবেশন করা হয়। চূর্ন-বিচূর্ন ত্বকএবং রূপ এতটাই বিশ্রী যে তা কোনও ভাবে সুন্দর বলে স্বীকার করা যায় না।

মোঙ্ক ফিস
ছবিঃ মোঙ্ক ফিস

৭। মারাবু স্টকঃ

আফ্রিকান এসব পাখি নিজের পায়ের উপর দাড়ালে ৫ ফিট লম্বা হয় এবং ডানা ১০ ফিট এর চেয়ে বড় হয়ে থাকে। এরা সবচেয়ে অলস প্রকৃতির পাখি। এরা কোন কাজ করতে চায় না। এমনকি এরা নড়াচড়াও করতে চায় না, এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে।

Marabu stock
ছবিঃ মারাবু স্টক

৮। সীল মাছঃ

পুরুষ-স্ত্রী এলিফ্যান্ট সীল দেখতে অনেকটা সুন্দর হলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে এদের নাক বড় হতে থাকে। এজন্য এদের দেখতে অনেক বিশ্রী লাগে। এদের আকৃতি অনেক বড় হওয়ায় নামের সাথে এলিফ্যান্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এদের নাক গর্জনের কাজে ব্যবহার হয়।

 Seal fish
ছবিঃ সীল মাছ

৯। ব্যাটফিসঃ

এদের দেখে অনেকটা ঠোঁটে লিপস্টিক দিয়েছে বলে মনে হয়।এত বেশি লাল মনে হয় যে তার শরীরে কোন অংশ লিপস্টিক কেক দিয়ে ক্ষত পূরন করা হয়েছে। এরা মাছ হলেও সাঁতার কাটতে পারে না। বরং পানির নিচে এরা হাঁটে।

Batfish
ছবিঃ ব্যাটফিস

১০। হায়েনাঃ

এরা সাভানা অঞ্চলের ভাল্লুকের মত শিকারী প্রানী। এরা পৃথিবীর অসুন্দর প্রাণীদের তালিকায় পড়ে। তবে এদের মধ্যে রসিকতাবোধ আছে। এ কারনে এদের অনেক সময় “লাফিং হায়েনা” বলা হয়।

 Hyena
ছবিঃ হায়েনা

 

Facebook Comments

YappoBD

YappoBD-হলো poshupakhi.com এর একমাত্র স্বত্তাধীকারি। এই ওয়েবসাইটের সকল প্রকার কন্টেন্ট ইয়াপ্পোবিডি কর্তৃপক্ষ দ্বারা লিখিত, পরিমার্জিত এবং এটি ইয়াপ্পোবিডি এর অঙ্গসংস্থান।