You are currently viewing সাইবেরিয়ার প্রাণীর অজানা রহস্য

সাইবেরিয়ার প্রাণীর অজানা রহস্য

সম্পূর্ন রাশিয়ার শতকরা ৭৫ ভাগ অঞ্চল সাইবেরিয়ার অন্তর্ভুক্ত। সাইবেরিয়া আকারে বড় হলেও এর জনসংখ্যা অনেক কম। প্রায় যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার অর্ধেক। এত বিশাল ফাকা জায়গা থাকায় এবং অনেক এলাকাগুলো জনশূন্য হওয়ায় এরা অবাধ ভাবে চলাফেরা করে। এ জন্য এই অঞ্চল প্রাক-ঐতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাণীর মিলনস্থল হিসাবে পরিচিত। এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী দেখা যায়। এ সব প্রাণী গুলো স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে তাদের নির্দিষ্ট এলাকায়। সাইবরিয়ার প্রানী গুলো ঠান্ডার মধ্যে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। নিচে এমনই সব প্রাণীর তথ্য তুলে ধরা হলঃ

মাস্ক হরিনঃ

এ প্রজাতির হরিন অস্বাভাবিক প্রকৃতির এবং অনেক মূল্যবান। অন্য যে কোন প্রজাতির হরিনের শিং থাকলেও এদের শিং নেই। এদের শিং পরিবর্তিত আকৃতির, অনেকটা কানের মত। বাকিসব পুরুষ প্রজাতির হরিনের মত এদের এই কান বা শিং প্রজনন এর কাজে সাহায্য করে, স্ত্রী হরিনকে আকৃষ্ট করতে। এরা লম্বায় ৩ ফিট এবং ওজনে সর্বোচ্চ ১০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ হরিনের গ্রন্থি থেকে যে রস নিঃসৃত হয় তা বিশ্বব্যাপী সুগন্ধি, কসমেটিক এবং ঔষধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এজন্য এদের দাম অনেক বেশি হয়। সাইবরিয়ার প্রানী দের মধ্যে এরা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন প্রাণী।

Musk Deer (সাইবেরিয়ার প্রাণী)
ছবিঃ মাস্ক হরিন

সাইবেরিয়ান কাঠবিড়ালিঃ

সাইবেরিয়ার সবচেয়ে কিউট প্রাণী কোনটি? এ নিয়ে যদি বিতর্ক হয় তাহলে শিম্পাঞ্জির নাম অনায়সে চলে আসে। নর্থ আমেরিকা এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে শিম্পাঞ্জির অস্তিত্ব খুজতে গেলে এদের এ প্রজাতিই দেখতে পাওয়া যায়। এবং সেগুলো দক্ষিন-পূর্ব  এশিয়া অঞ্চলের প্রাণীর সাথে অনেকটা মিল রয়েছে। এদের মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত সাদা কালোর স্ট্রাইপ এর মত পশম রয়েছে। যার মধ্যে ৪টি সাদা দাগ এবং ৫টি কাল দাগ রয়েছে। এ দাগগুলো তাকে বিশেষ সুন্দর করে তুলেছে। অন্য প্রজাতির কাঠবিড়ালির এর চেয়ে এরা ছোট আকৃতির এবং এদের লেজ অনেক বড় আকৃতির।কাঠবিড়ালী সম্পর্কে আরও জানতে ক্লিক করুন

সাইবেরিয়ার প্রাণী
ছবিঃ সাইবেরিয়ান কাঠবিড়ালী

বালস্কিস্টন পেঁচাঃ

পেঁচাদের মধ্যে এরা অনেক বিরল প্রজাতির পেঁচা। এদের শুধুমাত্র জাপান এবং পূর্ব-রাশিয়ার অঞ্চল গুলোতে এদের দেখা যায়। এরা পৃথিবীতে বসবাসরত সবচেয়ে দুর্বল পেঁচাদের মধ্যে অন্যতম। ধারনা করা হয়ে থাকে এদের শুধুমাত্র ১০০০ প্রজাতিই পৃথিবীতে রয়েছে। ১৮৩৩ সালে জাপানের প্রকৃতিবিদ বাল্কিস্টন এ প্রজাতির সন্ধান পান। তার নাম অনুসারে এ পেঁচার নামকরন করা হয়েছে। ওজনের দিক থেকে এদের সবচেয়ে ভারি প্রজাতির পেঁচা বলা হয়। এছাড়াও ইউরেশিইয়ান প্রজাতির ঈগল এবং ধূসর বর্নের ঈগলও সাইবেরিয়া অঞ্চলে পাওয়া যায়।

BLAKISTON’S FISH OWL ( পেঁচা )
ছবিঃ বাল্কিস্টন পেঁচা

সাইবেরিয়ান হাস্কিঃ

বিশ্বব্যাপী পোষা প্রাণীদের চয়েসে এদের সবাই পছন্দ করছে। কেননা এদের আকৃতি অনেকটা কুকুরের এর মত বা তার থেকে একটু বড় । কিন্তু এদের স্বভাব নেকড়ের মত এবং ততটাই আগ্রসী। রাশিয়ার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এদের দেখতে পাওয়া যায়। “চিকুচি” নামের এক গোস্টীর লোক আছে যারা এদের পরিচালনা এবং লালন-পালন করে থাকে। এ কারনে এ অঞ্চলগুলো ট্যুরিস্টদের জন্য অনেক আকর্ষনীয় অঞ্চল। প্রতি বছর বহু ট্যুরিস্ট এ অঞ্চলে আসে এবং হাস্কি চালিত গাড়িতে বরফের মধ্যে ভ্রমণ করেন।

সাইবেরিইয়ান হাস্কি ( Siberian husky )
ছবিঃ সাইবেরিয়ান হাস্কি

ইউরেশিয়ান লিনাক্সঃ

এটা দেখতে অনেকটা বিড়ালের মত। এরা নিজেদের চারপাশের পরিবেশের সাথে নিজেকে সহজে মানিয়ে নিতে পারে। শীতকালে এদের শরীরের চামড়া অনেকটা হালকা বাদামী বর্নের হয়। এমনটা হয় সেই অঞ্চলের আবহওয়া এবং তাপমাত্রার তারতম্য হওয়ার জন্য। উনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীতে স্ক্যান্ডেভিয়া এবং ইউরোপের কিছু অঞ্চলে এদের গতানুগতিক ভাবে শিকার করার জন্য এরা প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে বড় প্রজাতির বিড়ালদের মধ্যে এরাই বর্তমানে প্রকৃতিতে বেঁচে আছে এবং সংখ্যায় প্রায় ১০ হাজার এর কাছাকাছি।

Eurasian Lynx বিড়াল
ছবিঃ বিড়াল

 

পরিশেষে, সাইবেরিয়ার প্রাণীর সংখ্যাগত দিক থেকে বেশি হলেও প্রাণীর বৈচিত্র্য রয়েছে। পশুপাখি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া পেজে চোখ রাখুন এবং আপনাদের মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করুন।

 

Facebook Comments

YappoBD

YappoBD-হলো poshupakhi.com এর একমাত্র স্বত্তাধীকারি। এই ওয়েবসাইটের সকল প্রকার কন্টেন্ট ইয়াপ্পোবিডি কর্তৃপক্ষ দ্বারা লিখিত, পরিমার্জিত এবং এটি ইয়াপ্পোবিডি এর অঙ্গসংস্থান।