বিষাক্ত প্রাণীদের তালিকা অনেক বড় এবং এরা ক্ষতিকর। এমন অনেক প্রাণী আছে যারা প্রাকৃতিক ভাবে বিষ অথবা বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে উৎপন্ন করে থাকে। এ বিষ তারা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য এবং শিকার এর হাত থেকে বাঁচার জন্য ব্যবহার করে থাকে।অন্য প্রাণীরা তাদের খাদ্য থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিষাক্ত পদার্থ জমা করে। পরবর্তীতে এ বিষ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে।
জেলিফিশ থেকে সাপ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষাক্ত প্রাণী বিভিন্ন আকৃতিতে এবং বিভিন্ন সাইজের বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। আমাদের চারপাশে অনেক বিষাক্ত প্রাণী রয়েছে। আজকে এমনি সব ১০ টি প্রাণী সম্পর্কে আমরা জানব।
টাইগার সাপঃ
এরা বেশিভাগ এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন জঙ্গলে পাওয়া যায়। এরা নিজেদের শরীরে বিষ উৎপন্ন করে এবং জমা করে রাখে। এরা যেমন বিষাক্ত তেমনি বিপদজনক। এরা জমা করা বিষ শিকার করার সময় ব্যাঙের চামড়ার ভিতরে প্রবেশ করে দেয়। এতে ব্যাঙ মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

পিটোহুই পাখিঃ
এ পাখির শরীরের চামড়ায় নিউরোটক্সিন নামক বিষাক্ত পদার্থ রয়েছে। এ পদার্থ মানুষের জন্য কিছুটা ক্ষতিকর এবং এই পাখি বেশিরভাগ গভীর বনাঞ্চলে পাওয়া যায়। তবে ছোট ছোট প্রজাতির প্রাণীদের জন্য এ পাখির বিষাক্ত পদার্থ অনেক ক্ষতিকর।
পাখিদের সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

সামুদ্রিক কচ্ছপঃ
এরা খাবার হিসাবে সামুদ্রিক শৈবাল এবং স্পঞ্জ গ্রহণ করে থাকে যেগুলো মূলত কিছুটা বিষাক্ত প্রকৃতির। এছাড়াও আরো কিছু সামুদ্রিক প্রাণী আছে যারা বিষাক্ত। তাদের এ কচ্ছপ তার খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। বিষাক্ত প্রাণী খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করার কারণে এবং এদের শরীরের মাংসও বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। কেউ যদি এদের মাংস খায় তবে সে অসুস্থ হয়ে পড়বে।

বিষাক্ত প্রাণীঃ
এ শরীরে বিষ উৎপাদন করে একটি গ্রন্থি রয়েছে। এখান থেকে উৎপাদিত বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত বিষ হিসেবে পরিচিত। এ বিষ শরীরের চামড়ার সাথে মিশ্রিত অবস্থায় রয়েছে। কোন প্রাণী শিকার করলে তার মারা যাওয়ার প্রবণতা বেশি। এ ব্যাঙ বিষাক্ত প্রাণীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

ডার্ট ব্যাঙঃ
এরা আকারে ছোট এবং দেখতে অনেক সুন্দর। এতে শরীরের হলুদ এবং কালো সংমিশ্রণে কিছু প্যাটার্ন তৈরি করা রয়েছে যা এদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। এদের বিষ এদের চামড়ায় থাকে। কেউ যদি এদের ধরতে চায় তবে সে গুরুতর অসুস্থ হবে।

স্প্যানিশ পোকাঃ
এরা এক বিশেষ প্রজাতির পোকা মারা বিষ উৎপাদন করে নিজেদের শরীরে। আকারে অনেক ছোট। এদের উৎপাদিত বিষের নাম ক্যাথিহারিড্রিন। এ বিষ এদের চামড়ায় থাকে। এ পোকা কারো গায়ে পড়লে সেখানে জ্বালাপোড়া করা শুরু করে। এ বিষের কারণে আলসার রক্তপাত এবং খাদ্য হজম করতে অসুবিধা হয়।

তারা মাছঃ
কম্ব স্টার নামে তারা মাছ অনেক বিষাক্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে। কেউ যদি এতে ধরার চেষ্টা করে তবে শ্বাসক্রিয়ার সমস্যা সৃষ্টির মাধ্যমে তার মৃত্যু ঘটতে পারে।এর শরীরে এত বেশি পরিমাণে বিষ থাকে যে একবার হাত দিয়ে ধরলে, সম পরিমাণ বিষে ৫২০ টি ইঁদুর মুহূর্তে মারা যেতে পারে। এ বিষের এখনও কোনো প্রতিষেধক বের হয়নি।

টিকটিকিঃ
সালামান্ডার এর মাত্র 3 টি বিষাক্ত প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে রাফ স্কিন নিউট সবচেয়ে বেশি বিষাক্ত।এদের শরীরে বিশ্বের কোন প্রতিষেধক নেই;। এরা যেদিক দিয়ে চলাফেরা করে একটি দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর এই বিষ শিকারকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। ঘরের টিকটিকি বিষাক্ত প্রাণী নয়।

সার্জন ফিশঃ
এ মাছ তার খাদ্য হিসাবে এক বিশেষ প্রজাতির শৈবাল খেয়ে থাকে। উক্ত শৈবাল বিষাক্ত হওয়ার কারণে এ মাছের শরীর সম্পূর্ণ বিষাক্ত হয়ে যায়। এ কারণে শরীরের টক্সিন পদার্থ উৎপন্ন হয়। এই মাছের বিষের কারণে প্রতি বছর ২০০০০ থেকে ৫০০০০ লোক অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

পাফার ফিশঃ
এরা দেখতে অনেকটা কিডনির মত কিন্তু এদের শরীরে কাঁটা রয়েছে। এই কাঁটাগুলো মানুষের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কিন্তু তারপরও মানুষ মাছটিকে খাবার হিসেবে খেয়ে থাকে।

পরিশেষে অসংখ্য প্রজাতির বিষাক্ত মাছ রয়েছে। এরকম বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী এবং মাছ সম্পর্কে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্স এর মাধ্যমে আপনাদের মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করুন।