পিঁপড়া কি আসলেই মানুষ মারতে পারে?!
ছবিঃ পিঁপড়া

পিঁপড়া কি আসলেই মানুষ মারতে পারে?!

আমরা সবাই পিঁপড়াকে পরিশ্রমী প্রানীদের তালিকায় শীর্ষ পাই।পিঁপড়ার কামড়ে সাধারনত কিছু হয়না তবে সামান্য  চুলকায়।পিপড়ারা সর্বদা দলবেধে বসবাস করে।প্রজাতিভেদে এদের উপনিবেশে কয়েক মিলিয়ন পিঁপড়া নিয়ে গঠিত হয়। একটি কলনীতে তিন ধরনের পিপড়া থাকে। এরা হলঃ রানী, মহিলা শ্রমিক, পুরুষ শ্রমিক। কখনও নতুন কোন পিঁপড়ার জন্মগ্রহন করলে সে পিঁপড়াটি দাসী পিঁপড়া হিসাবে বিবেচিত হয়।পিঁপড়ার ৬টি পা ৩টি করে যুক্ত অবস্থায় থাকে এবং এদের পায়ে নখর থাকে যা চলাফেরা করতে সাহায্য করে।এদের মাথা অনেক বড় দেহের তুলনায় এবং যৌগিক প্রকৃতির। পৃথিবীতে এমনও প্রজাতির পিঁপড়া আছে যেগুলার কামড়ে মানুষের মৃত্যুও হইতে পারে। এ প্রজাতির পিঁপড়া সেন্ট্রাল আফ্রিকা এবং পূর্ব আফ্রিকা অঞ্চলে পাওয়া যায়। এরা ঐ অঞ্চলে কলনি তৈরী করে বসবাস করে। ২০ মিলিয়ন পিঁপড়া ঐ উপনিবেশ গঠন করে একত্রে বসবাস করে।এ ছাড়াও এরা আফ্রিকার দক্ষিণাংশে এবং এশিয়ার ক্রান্তীয় অঞ্চল পর্যন্ত এরা বিস্তৃত  সাধারনত পিঁপড়া সেনা বা “আর্মি অ্যাণ্ট” বলে। খরার সময় এ পিঁপড়াগুলো মানুষের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ নেয়।

পিঁপড়া ( Army Ant )
ছবিঃ পিঁপড়ার কলোনি

 

Army Ants Dorylus sp. 6927770850এরা Dorylus গোত্রের পিঁপড়া।এদের “ড্রাইভার অ্যাঁণ্ট” , “সাফারি অ্যাঁণ্ট” বা “সাইফু” ও বলা হয়। এরা মাটিতে,পাথরের নীচে অথবা  মাটির উপরে বাড়ি নির্মিত করে থাকে। এছাড়া মাটির উপরে অবস্থিত গাছের ডাল, নুড়ি, বালু বেশি যেখানে থাকে সেখানেও আবাসস্থল তৈরী করে থাকে। এ গোত্রের পিঁপড়াগুলোর সম্পর্কে মজার বিষয় হল এরা কখনও একা ভ্রমন করে না। এরা সর্বদা দলবেধে ভ্রমন করে। এ কারনে এরা মানুষ সহ অন্য সব প্রাণীর জন্য হুমকি-স্বরূপ হয়। ভ্রমন করার সময় এরা এদের পথে যেটি বাধা হয় সেটি তারা খেয়ে ফেল। ভ্রমণকালে এরা কেঁচো, পোকা এবং এমন সব প্রাণী যারা তাদের ফাঁদ থেকে বাঁচার জন্য পথ খুজে পায় না। এ প্রজাতির পিঁপড়া, রানী এবং তার উপনিবেশ ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তবে পুরুষ পিঁপড়ারা রানীর সাথে মিলনের পরই মৃত্যু ঘটে; এরা বেশি দিন বাঁচে না। শ্রমিক পিঁপড়ারা  ১ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। শ্রমিকরা সকল ধরনের কাজ করে থাকে।

বিষ পিঁপড়া
ছবিঃ ড্রাইভার অ্যান্ট

এ প্রজাতির পিঁপড়া মানুষকে সম্ভাব্যভাবে গ্রাস করতে পারে।এদের আফ্রিকার “ড্রাইভার” বলা হয়। এরা “ইন্ডিয়ানা জোন্স” নামক ছবিতে যতটা খারাপ ভাবে উপস্থাপন করা হয় ততটাও না। তবে এ পিঁপড়া শিশুদের হত্যা করার জন্য পরিচিত। যদিও এটি অনেকটা গুজব বলে লোকমুখে শোনা যায়। আপনি যদি ভুল করে পিঁপড়াদের এলাকায় চলে যান এবং চতুর্দিকে পিঁপড়ার কলনি তখন আপনি নড়াচড়া না করলেও এরা আপনাকে আক্রমন করতে পারে অথচ আপনি কিছুই করতে পারবেন না।এরা ভ্রমনের সময় এদের পথে কোন বাধা থাকুক; তা তারা মোটেও পছন্দ করে না। বাধা পাইলেই তারা আক্রমনাত্মক এবং হিংস্র হয়ে উঠে।এদের এলাকা এড়িয়ে  চলাই অনেকটা নিরাপদ

পিঁপড়া
ছবিঃ সাইফু পিঁপড়া

যদিও সুস্থ-সবল মানুষের এ পিঁপড়ার হাতে মৃত্যু অনেকটা কল্পনার বাহিরে হইলেও এরা সুস্থ মানুষের জন্যও অনেকটা  বিপদজ্জনক। মৌমাছির কামড়ে মানুষের সহজে মৃত্যু হয় না। কিন্তু কোন মৌচাকের অনেক মৌমাছির কামড়ে সুস্থ মানুষেরও মৃত্যু ঘটতে পারে। একই ভাবে অনেকগুলো এ প্রজাতির পিঁপড়া একত্রে কামড়েলে মৃত্যুর কারন হইতে পারে। সুতরাং আকারে ছোট ক্ষতিকর প্রানীকেও উপেক্ষা করতে নেই। এরা মানুষ ছাড়া অন্য প্রানীকেও শিকার করে থাকে এবং সম্পূর্ণ প্রাণীকে গোগ্রাসে খেয়ে ফেলে। এ পিঁপড়া আক্রমন করতে এবং কামড়াতে অনেক ভালবাসে।

Facebook Comments

YappoBD

YappoBD-হলো poshupakhi.com এর একমাত্র স্বত্তাধীকারি। এই ওয়েবসাইটের সকল প্রকার কন্টেন্ট ইয়াপ্পোবিডি কর্তৃপক্ষ দ্বারা লিখিত, পরিমার্জিত এবং এটি ইয়াপ্পোবিডি এর অঙ্গসংস্থান।