You are currently viewing কিভাবে প্রানীগুলো মানুষকে “এপ্রিল ফুল” বানালো বিস্তারিত পড়ুন……

কিভাবে প্রানীগুলো মানুষকে “এপ্রিল ফুল” বানালো বিস্তারিত পড়ুন……

প্রাণীজগতে মানুষ সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হিসাবে পরিচিত। এজন্য মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বলা হয়। সৃষ্টির সকল প্রাণীকে মানুষের অধীন করে দেওয়া হয়েছে।  স্বাভাবিক ভাবে মানুষ বুদ্ধিমান হওয়ায় অন্যের নিকট বোকা বনে যাওয়া বিষয়টি শুনতেই অস্বাভাবিক লাগে। মানুষের কাছে “এপ্রিল ফুল” বছরে একবার হলেও প্রাণীদের কাছে এর জন্য নির্দিষ্ট কোন তারিখ নেই। এরা মানুষ সহ যে কোন প্রাণীকে যখন তখন বোকা বানায়। কিভাবে প্রাণীরা মানুষকে বোকা বানায় তা নিচে উল্লেখ করা হলঃ

প্রাণী (মানুষ)
ছবিঃ ছদ্মবেশী প্রাণী

ছদ্মবেশে বোকা বানানোঃ

এমন অনেক প্রাণী আছে যারা মানুষের নজরের আড়ালে থেকে নিরন্তর কাজ করে যায়। তারা তাদের চেহারা, আওয়াজ, এবং শরীরের গন্ধ ইত্যাদি এর উপর আবরন এর মত নিজেদের ছদ্মবেশ ধারন করে। এ ধরনের প্রাণীরা যে ধরনের কৌশল অবলম্বন করে সে কৌশলকে জীববিজ্ঞানিরা  “ক্রিপসিস” বলে থাকে। এরা নিজেদেরকে সমতল জায়গায় লুকিয়ে নিয়ে মানুষকে বোকা বানায়।

Rabbit ( এপ্রিল ফুল )
ছবিঃরিপারিয়ান ব্রাশ র‍্যাবিট

মাছের ছদ্মবেশঃ

মাছ যে জায়গায় চলাফেরা করে সেখানের চারপাশ সম্পর্কে ছোট ছোট বিষয়ও খুব সহজে বুঝতে পারে। তারা শরীরের রং পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে খাপ-খাইয়ে নেয়। এটিও “ক্রিপসিস” নামে পরিচিত। স্বচছ পানিতে জুভেনাইল প্রজাতির মাছের শরীরের  কিনার পারিপার্শ্বিক এর সাথে সহজে মিলে নিতে পারে। এভাবে সে মানুষকে বোকা বানিয়ে থাকে। মাছ ধরতে গেলে প্রায়ই আমারা এমন মাছের সামনে থাকি যা অতি সহজেই ধরা যাবে। কিন্তু ছদ্মবেশের কারনে আমারা বুঝতে পারি না।

Fish মাছ ( মানুষ )
ছবিঃজুভেনাইল রেইনবো

কঠিন ধাঁধা:

নিচের ছবিতে কিছু দেখতে পারছেন কি ? বুঝতে অনেক জটিল মনে হলেও নিচের ছবিতে হরিন ছদ্মবেশে লুকিয়ে রয়েছে। বিশ্বাস না হলে খুঁজে দেখুন এবং আপনার মন্তব্য কমেণ্ট বক্সে লিখে কমেণ্ট করুন।

Deer হরিন
ছবিঃছদ্মবেশী হরিন

যখন প্রাণীরা “ক্রিপসিস” এর মাধ্যমে নকল করতে পারে না তখন তারা একে অন্যের আওয়াজ নকল করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

বেটসিয়ান VS মুলেরিয়ানঃ

নিচের প্রজাপতি দেখতে অনেক সুন্দর লাগলেও আমরা যে সুন্দর প্রজাপতি মনে করি এই প্রজাপতি আসলে সেটি না। এরা দেখতে সুন্দর কিন্তু অত্যান্ত বিষাক্ত। এই একই রকম দেখতে প্রজাপতি মুলত একে অপরের আওয়াজ নকল করে থাকে। এ কারনে মানুষ ভুল করে থাকে। তবে এদের পাখা দেখে  কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। প্রজাপতি সম্পর্কে আরও জানতে ক্লিক করুন

Butterfly ( প্রজাপতি )
ছবিঃপ্রজাপতি

চোখের ধোকাঃ

অ্যারিজোনার পাথুরে অঞ্চলে কিং স্নেকদের চিনতে অনেকটা ধোঁকা খেতে পারে। এরা কিন্তু অবিষাক্ত। কিন্তু এদের দেখতে কোরাল স্নেক এর মত। পার্থক্য শুধু গায়ের রং এর গাঢ় হওয়ার মাত্রার উপর।

Snake ( মানুষ )
ছবিঃ গ্রীন স্নেক

আগ্রাসী মৌমাছিঃ

নিচের ছবিতে দেখলে হুল সহ এবং হুল ছাড়া মৌমাছির মধ্যে খুব সহজে পার্থক্য বুঝা যায় না। কিন্তু এরা মৌমাছির প্রজাতি হলেও এদের হুল নেই এবং চারটির পরিবর্তে দুটি ডাণা আছে।

BEE
ছবিঃ মৌমাছি

ক্যাটারপিলার VS গ্রীন স্নেকঃ

গ্রীন স্নেকের মত ক্যাটারপিলার এর চোখেও একই রকম স্পট রয়েছে। দেখতে অনেকটা ভয়ংকর লাগলেও এদের মধ্যে পার্থক্য বুঝা অনেক কঠিন। তবে গ্রিন স্নেক দেখে যে কারও ভয় লাগবে।

snake সাপ ( মানুষ )
ছবিঃ গ্রিন স্নেক

হং নোজ সাপ VS কোবরাঃ

হং নোজ যখন ফণা তুলে এবং হিসসসসসসস শব্দ করে তখন তা দেখতে অনেকটা কোবরা এর মত লাগে। যদিও হং নোজ সাপ সম্পূর্ন নিরীহ প্রাণী। বিপদে পড়লে এরা রক্ষা পাওয়ার জন্য সকল চেষ্টা করে থাকে। কিন্তু তারপরও ব্যর্থ হলে মৃতের মত পড়ে থাকে। সাপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

snake
ছবিঃ সাপ

আগ্রাসীভাবে নকল করাঃ

শিকারি প্রানিরা তাদের শিকারকে ফাঁদে ফেলার জন্য ঐ সব প্রাণীদের মত আওয়াজ করে থাকে। যেমনঃ কুমির এবং বড় কচ্ছপ। এছাড়াও রূপালী আর্জিও মাকড়সা অন্য মাকড়সা এর তুলনায় বিচিত্র রকমের জাল বুনে থাকে।এদের টেক্সাসের দক্ষিন অংশে দেখা যায়। মাকড়সার জাল জটিল প্যাটার্ন এর মত দেখতে এবং জালের মধ্যে জিগ-জ্যাগ আকৃতির হয়ে থাকে।

spider
ছবিঃ মাকড়সা

 

এ রকম আরও অদ্ভুত অদ্ভুত সব তথ্য জানতে পশুপাখি এর সাথেই থাকুন। আপনার বিচিত্র কোন তথ্য জানা থাকলে কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Facebook Comments

YappoBD

YappoBD-হলো poshupakhi.com এর একমাত্র স্বত্তাধীকারি। এই ওয়েবসাইটের সকল প্রকার কন্টেন্ট ইয়াপ্পোবিডি কর্তৃপক্ষ দ্বারা লিখিত, পরিমার্জিত এবং এটি ইয়াপ্পোবিডি এর অঙ্গসংস্থান।