You are currently viewing চাতক পাখির মত চেয়ে থেকে লাভ কি, বলুন তো

চাতক পাখির মত চেয়ে থেকে লাভ কি, বলুন তো

চাতক পাখির নাম আমরা কথা বলার সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকি। অনেকই খনার বচনের মত এটি যে কাউকে কথায় কথায় বলে থাকে। কিন্তু আমরা এই পাখিটির সম্পর্কে খুব কম জানি। কী রকম দেখতে বা কি কারনে মানুষ শুধুমাত্র এই পাখির নাম ঠাট্টার জন্য বলে থাকে এর কারন আজও অজানা। এমন আরেকটি বাস্তব উদাহরন হল ঘটক পাখি ভাই ঘটকালি করে বেড়ায়। তার নামের মধ্যে পাখি শব্দ থাকলেও তিনি পাখিদের ঘটকালি করে না। বরং বিবাহ উপযুক্ত ছেলে মেয়েদের ঘটকালির কাজ করে থাকে। আমাদের মধ্যে অনেকেরই শখ পোষা পাখি  পালন অথবা কবুতর পালন করে থাকে। পরে এই কবুতর হাটে বিক্রি করে থাকে। কবুতর এবং কোয়েল পাখি বর্তমানে অনেক বেশি পরিমানে পোষা হিসাবে পালন করা হয়। যা আমাদের চতুর্দিক তাকালে বুঝতে পারা যায়।

তাই খনার বচনের মত কথায় কথায় মুখে খৈ না ফুটিয়ে সঠিক তথ্য জানা দরকার । তাই আজকে আমরা চাতক পাখির সাথে আরও অন্যান্য পাখিদের সম্পর্কেও জানব। একই সাথে বাংলাদেশের পাখি কত বিচিত্র রকমের সুন্দর হয় এবং গাছের ডালে পাখির ডাক কতটা মধুর হয় তা জানব। আকার আকৃতি এবং বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে সকল পাখির বাসস্থান এবং তাদের ডাক সম্পূর্ন ভিন্ন হয়। চলুন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজাতি সুন্দর পাখিদের সম্পর্কে জেনে নিই।

চাতক পাখিঃ

এই নামের পাখি প্রকৃত অর্থে কোকিলের মত। এরা কোকিলের অনেক গুলো প্রজাতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য এবং বাংলাদেশের সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায়। এরা বাংলাদেশ ছাড়াও মাঝে মধ্যে ইন্ডিয়াতে মাইগ্রেশন করে থাকে। এদের মূলত এশিয়া এবং আফ্রিকা দেশগুলোতে দেখতে পাওয়া যায়। কোকিল পাখি কখনও নিজে বাসা বানায় না এবং সবসময় অন্যের বাসায় ডিম পাড়ে। এ কারনে চাতক পাখিও কোকিলের একটি প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এরাও মাঝে মাঝে কাকের বাসায় দেখতে  পাওয়া যায়।

চাতক পাখি
ছবিঃ চাতক পাখি

শালিক পাখিঃ

এই পাখিকে ইংরেজিতে Starling বলা হয়। এশীয় অঞ্চলের এই ধরনের পাখিটিকে শালিক পাখি বা ময়না পাখি নামে ডাকা হয়। এরা মাঝারি আকারের এবং শরীরের রঙ চকলেট এবং কালো রঙের সংমিশ্রিত রূপ। ঠোট হলুদ হওয়াই সবকিছুর কম্বিনেশন মিলে সুন্দর দেখায় পাখিটিকে। এদের মাথায় সামান্য ছোট আকৃতির ঝুঁটিও দেখা যায় কিছু পাখিদের ক্ষেত্রে। এছাড়াও আরও এক ধরনের পাখি আছে যা আমাদের চারপাশেই দেখা যায়। পাখিটির নাম সারশ পাখি।

শালিক পাখি
ছবিঃ শালিক পাখি

 

কাঠঠোকরাঃ

এরা আকারে ছোট হয় এবং তাদের ঠোঁট যথেষ্ট শক্ত হয়। ফলে এরা গাছের বাকল কিংবা কাঠ সহজেই ঠোঁট দিয়ে ঠুকরে ছিদ্র করে থাকে। কাঠঠোকরা পাখির বাসা গাছেই গর্ত তৈরি করে সেখানে বাস করে। এদের মাথায় লাল রঙের একটি ঝুটি দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউ গিনি, নিউজিল্যান্ড মাদাগাস্কার ইত্যাদি দেশে এদের দেখতে পাওয়া যায়।

কাঠঠোকরা
ছবিঃ কাঠঠোকরা

বক পাখিঃ

লম্বা গলা বিশিষ্ট পাখি শুধুমাত্র এটি। কেননা এরা মিঠাপানির বিভিন্ন জলাশয়ের আশেপাশে দেখতে পাওয়া যায়। বেশীভাগ সময় এরা মাছ খেয়ে থাকে। গলা এবং পা লম্বা হওয়াই এদের সম্পুর্ন শরীর পানি থেকে যথেষ্ট উপরে থাকে। সাদা বক মাছ ধরার কৌশল অবলম্বন করে। এর ফলে এরা কম সময়ে বেশী মাছ ধরতে সক্ষম হয়। আমাদের দেশে যে প্রজাতির বক দেখতে পাওয়া যায় তার চেয়ে সুন্দর বক অন্যদেশ গুলোতেও দেখা যায়। এই সুন্দর প্রজাতির বকদের সম্পর্কে জানার জন্য ভিজিট করুন

সাদা বক
ছবিঃ সাদা বক

বুলবুলি পাখিঃ

এই পাখিটি গান গায়। কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় ধান আবাদ করা হয়। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে বেশিভাগ ধান চাষ করা হয়। নদীমাতৃক বাংলাদেশ এ নদীতে মাছ এবং ধান  ( ভাত ) সহজেই পাওয়া যায়। এই জন্য বাঙালিদের ” মাছে ভাতে বাঙালি ” বলা হয়। বুলবুলি পাখি ধান সিদ্ধ করে শুকানোর সময় ধান বেশী খায়। এজন্য কবি বলেছেন ” বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কিসে ”

বুলবুলি পাখি
ছবিঃ বুলবুলি

পরিশেষে, চাতক পাখির মত চেয়ে থাকা কিছুটা উদ্ভট প্রকৃতির মত লাগে অনেকের কাছে। তাই বিনা কারনে যে কারও দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজের কাজে ব্যাস্ত থাকা ভাল। এই ধরনের আরও পাখি রয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের পাখি সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের সাথেই থাকুন এবং আপনাদের মূল্যবান মন্তব্য আমাদের সাথে শেয়ার করুন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Facebook Comments

YappoBD

YappoBD-হলো poshupakhi.com এর একমাত্র স্বত্তাধীকারি। এই ওয়েবসাইটের সকল প্রকার কন্টেন্ট ইয়াপ্পোবিডি কর্তৃপক্ষ দ্বারা লিখিত, পরিমার্জিত এবং এটি ইয়াপ্পোবিডি এর অঙ্গসংস্থান।